Violence brings violence, forgiveness brings peace.

Our beloved Prophet Hazrat Muhammad (peace be upon him) was the greatest human being of all time.  He never lied in life, never oppressed anyone, never harmed anyone except for good, he was a great man full of human qualities.  However, many people in the Arab society of that time did not recognize him even though they came in direct contact with him. Rather, they lied to him whenever they got the chance;  They did not even hesitate to torture him.

He was rejected by the people of Taif while preaching in Taif and was brutally tortured on the way back.  The people of Taif did not stop throwing stones even after repeatedly fainting in the blood-soaked body.  When the angel of the mountain himself became angry and asked permission to throw the people of Taif on the ground, the Prophet (peace be upon him) did not respond to the angel’s call but forgave them.  At the same time, he prayed to Allah, the Most Merciful, for the guidance of the people of Taif.

Where many people did not recognize the Prophet (peace be upon him) even after getting close to him; it is natural for sinful people like us to be misunderstood.

Whenever I remember this incident, I feel absolute peace in my mind.  Where many people did not recognize the Prophet (peace be upon him) even after getting close to him; it is natural for sinful people like us to be misunderstood. But, I believe, there is nothing greater than patience and forgiveness.

So if someone hurts you or slanders you, let us not be angry but forgive him and pray to Allah, the Most Merciful, for his guidance.  Violence brings violence, forgiveness brings peace.

May Allah guide us all, Ameen.

21 September, 2020

জীবন যেখানে যেমন…

জীবন একটি চলমান নদীর মতো। নদীর স্রোতের মতো মানবজীবনেও সর্বদা উত্থান-পতন রয়েছে। দুঃখ এবং সুখ পালাক্রমে আসবে; তবে কোনোটাই চিরস্থায়ী নয়। দুঃখ থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চার করে সুখের সময় সেটা কাজে লাগাতে পারলে তবেই আসবে প্রকৃত সফলতা।


When Dreams Come True…

It took me 28 years 2 months 14 days to become a member of Supreme Court Bar Association (SCBA), Alhamdulillah-Allahu Akbar. For me it seems like a dream come true moment .

On this day, I would like to thank my beloved parents, respected teachers and all other friends along with my well wishers.

My student life would never have been fulfilled unless I was a student of-

Shiben Sir (a man of vision),
Supan Sir (a person with magical powers),
Khair Mahmud Sir (a man of generosity and compassion), and
Shahnewas Monir Sir (a real gentleman).

You all are the real guide of my life.

Special thanks to Learned Senior Mr. Faisal Siddiqui for treating me as a younger brother and motivating me all the time.

Wish me good luck so that I can make the legacy continue…

16.03.2020

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছালাত বনাম প্রচলিত ছালাত -আব্দুর রাযযাক বিন ইউসুফ

কুনূত পড়ার পূর্বে তাকবীর দিয়ে হাত উঠানো যাবে না : 

বিতর ছালাতে ক্বিরাআত শেষ করে তাকবীর দিয়ে পুনরায় হাত বাঁধার কোনো প্রমাণ নেই। এই আমলের ব্যাপারে যা পেশ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বিতর ছালাতে কুনূত পড়তেন আর তিনি যখন ক্বিরাআত শেষ করতেন, তখন তাকবীর দিতেন এবং দুই হাত তুলতেন অতঃপর কুনূত পড়তেন।[1]  হাদীছটি ভিত্তিহীন।[2]  এই হাদীছ দলীলযোগ্য নয়। অতএব এ আমল হতে যরূরীভাবে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ আমাদের ছহীহ হাদীছের উপর আমল করার তাওফীক্ব দান করুন।

বিতরের কুনূতে আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ওয়া নাস্তাগফিরুকা’ বলা যাবে না :

এই দু‘আর অংশটি কুনূতে রাতেবার জন্য নয়; বরং এই দু‘আটি কুনূতে নাযেলার জন্য। সাধারণত এশার ছালাতের পর বিতর ছালাতের শেষ দিকে রুকূর আগে অথবা পরে হাত বাঁধা অবস্থায় অথবা হাত তুলে যে কুনূত পড়া হয়, তাকে কুনূতে রাতেবা বলে। আর পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের শেষ রাক‘আতে রুকূ থেকে উঠে হাত তুলে শত্রুর বিরুদ্ধে বদদু‘আ করা এবং মুসলিমদের রক্ষার জন্য নেক দু‘আ করার নাম কুনূতে নাযেলা। ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ওয়া নাস্তাগফিরুকা’এই দু‘আর অংশটি কুনূতে নাযেলার জন্য খাছ। এটা কুনূতে রাতেবায় পড়া যাবে না। ওবায়েদ ইবনে ওমায়ের (রাঃ) বলেন, আমি ওমর (রাঃ)-কে ফজরের ছালাতে দু‘আ কুনূত বলতে শুনেছি তিনি বলছিলেন,

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ اَللّهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَ نُؤْمِنُ بِكَ وَ نَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَ نُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَ لاَ نَكْفُرُكَ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ، اَللّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ و لَكَ نُصَلِّىْ وَ نَسْجُدُ وَ إِلَيْكَ نَسْعَى وَ نَحْفِدُ نَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَ نَخْشَى عَذَابَكَ إِنَّا عَذَابَكَ الْجِدَّ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ، اَللّهُمَّ عَذِّبْ كَفَرَةَ أَهْلِ الْكِتَابِ الَّذِيْنَ يَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِكَ.

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম। আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ওয়া নুমিনু বিকা ওয়ানাতাওয়াক্কালু ‘আলাইক, ওয়ানুছনী ‘আলাইকাল খাইরা ওয়ালা নাকফুরুকা বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম, আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়ালাকা নুছল্লী ওয়া নাসজুদ, ওয়া ইলাইকা নাসআ‘ ওয়া নাহফিদু নারজূ রহমাতাক, ওয়া নাখশা ‘আযাবাক, ইন্না ‘আযা-বাকাল জিদ্দা বিল কুফফারি মুলহিক্ব, আল্লাহুম্মা ‘আযযিব কাফারতা আহলিল কিতাবিল্লাযীনা ইয়াছুদদূনা ‘আন সাবীলিক।

অনুবাদ : ‘আমি পরম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট সাহায্য চাই। আমরা তোমাকে বিশ্বাস করি। আমরা তোমার উপর ভরসা রাখি। আমরা তোমার ভালো প্রশংসা করি। আমরা তোমার কুফরী করি না। তারপর তিনি পড়লেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। হে আল্লাহ! একমাত্র তোমার ইবাদত করি। একমাত্র তোমার জন্য ছালাত আদায় করি। আর একমাত্র তোমার জন্য সিজদা করি। তোমার পথে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমরা তোমার পথে দৌড়িয়ে যাই। আমরা তোমার রহমতের আশা রাখি। আমরা তোমার শাস্তির ভয় করি। তোমার কঠিন শাস্তি কাফেরদের উপর পতিত হোক। হে আল্লাহ! আহলে কিতাবদের (কাফেরদের) শাস্তি দাও, যারা তোমার পথে বাধা দেয়’।[3]

اَللّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ سَرِيْعَ الْحِسَابِ أَهْزِمِ الْأَحْزَابَ اَللّهُمَّ أَهْزِمْهُمْ وَ زَلْزِلْهُمْ- اَللّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ وَ مُجْرِىَ السَّحَابِ وَ هَازِمَ الْأَحْزَابِ أَهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ.

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা মুংযিলাল কিতাব, সারীআ‘ল হিসাব, আহযিমিল আহযাবা, আল্লহুম্মা আহযিমহুম ওয়া যালযিলহুম আল্লাহুম্মা মুংযিলাল কিতাব, ওয়া মুজরিয়াস সাহাব, ওয়া হাযিমাল আহযাব, আহযিমহুম ওয়াংছুরনা আলাইহিম।

অনুবাদ : ‘হে আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী! আমাদের সাথে ষড়যন্ত্রকারী দলকে পরাস্থ করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের পরাস্থ করুন, তাদের ভীতি প্রদর্শন করুন। হে আল্লাহ, কিতাব অবতীর্ণকারী, বৃষ্টি বর্ষণকারী! ষড়যন্ত্রকারী দলকে পরাস্থকারী! আপনি তাদের পরাস্থ করুন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন’।[4]

اَللّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيْدَ بْنَ الْوَلِيْدِ اللّهُمَّ اَنْجِ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ اَللّهُمَّ اَنْجِ عَيَّاشَ بْنَ اَبِىْ رَبِيْعَةَ- اَللّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلى مُضَرْ وَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِيْنَ كَسِنِىِّ يُوْسُفَ اَللّهُمَّ الْعَنْ فُلاَنًا وَ فُلاَنًا-

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংজিল ওয়ালীদাবনাল ওয়ালীদ, আল্লাহুম্মা আংজি সালামাতাবনা হিশাম, আল্লাহুম্মা আংজি ‘আইয়াশাবনা আবী রবী‘আহ, আল্লাহুম্মাশদুদ ওয়াত্বআতাক, আলা মুযার ওয়াজ‘আলহা আলাইহিম সিনীনা কাসিন্নিয়ি ইউসুফা আল্লাহুম্মাল ‘আন ফুলানান ওয়া ফুলানা।

অনুবাদ : ‘হে আল্লাহ! আপনি ওয়ালীদ ইবনে ওয়ালীদকে রক্ষা করুন, সালাম ইবনে হিশামকে রক্ষা করুন, আইয়াশ ইবনে আবী রাবী‘আকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! মুযার বংশের উপর আপনার শাস্তিকে কঠিন করে দিন, তাদের উপর দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দিন, যেমন ইউসুফ (আঃ)-এর যুগে চাপিয়েছিলেন। হে আল্লাহ! আপনি অমুক অমুকের উপর অভিসম্পাত করুন’।[5]

কুনূতে রাতেবা বা বিতরের কুনূত  :

হাসান ইবনে আলী (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাকে কিছু বাক্য শিখিয়ে দিয়েছেন, যা আমি বিতরের কুনূতে পড়ি-

اللَّهُمَّ اهْدِنِى فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِى فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِى فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِى فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِى شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِى وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ وَ صَلَّى اللهُ عَلَى النَّبِىِّ.

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাহ্দিনী ফীমানহাদাইত, ওয়া ‘আফিনী ফীমান ‘আফাইত, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমাং তাওয়াল্লাইত, ওয়া বারিকলী ফীমা আ‘তাইত, ওয়াক্বিনী শাররামা ক্বাযাইত, ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা ইউক্বযা ‘আলাইক, ইন্নাহু লাইয়াযিল্লু মাওঁ ওয়ালাইতা, ওয়ালা ইয়াইঝঝু মান ‘আদায়ত, তাবারকতা রব্বানা ওয়াতা‘আলাইত, ওয়া ছল্লাল্লাহু আলান্নাবিইয়ি।

অনুবাদ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে হেদায়াত দান করো। যাদের তুমি হেদায়াত করেছো তাদের সাথে। আমাকে মাফ করে দাও যাদের তুমি মাফ করেছো তাদের সাথে। আমার অভিভাবক হও যাদের অভিভাবক হয়েছো তাদের সাথে। তুমি যা আমাকে দান করেছো তাতে রবকত দাও। আর আমাকে ঐ অনিষ্ট হতে বাঁচাও যা তুমি নির্ধারণ করেছো। তুমি ফায়ছালা করো কিন্তু তোমার উপর কেউ ফায়ছালা করতে পারে না। তুমি যার সাথে শত্রুতা রাখো সে সম্মান লাভ করতে পারে না। নিশ্চয়ই সে অপমানিত হয় না যাকে তুমি বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছো। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বরকতময়, তুমি উচ্চ এবং নবী করীম (ছাঃ)-এর উপর রহমত অবতীর্ণ হোক’।[6]

উল্লেখ্য, উক্ত দু‘আটি মুখস্থ না থাকলে সূরা ইখলাছ পড়তে হবে মর্মে কোনো হাদীছ নেই। দু‘আ মুখস্থ না থাকলে কুনূত পড়তে হবে না।

নিয়মিত কুনূত পড়া যাবে না :

নিয়মিত কুনূত পড়ার কোনো প্রমাণ নেই। ফজর ছালাতের পরে নিয়মিত কুনূত পড়া এবং কুনূতে নাযেলার স্থানে কুনূতে রাতেবা পড়া শরী‘আত বিরোধী আমল। নিয়মিত কুনূত পড়াকে ছাহাবীগণ বিদ‘আত বলতেন।

عَن أبي مَالك الْأَشْجَعِيّ قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي: يَا أَبَتِ إِنَّكَ قَدْ صليت خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبِي بكر وَعمر وَعُثْمَان وَعلي هَهُنَا بِالْكُوفَةِ نَحْوًا مِنْ خَمْسِ سِنِينَ أَكَانُوا يَقْنُتُونَ؟ قَالَ: أَيْ بُنَيَّ مُحْدَثٌ

আবু মালিক আশজাঈ (রাঃ) বলেন, আমি আমার আব্বাকে বললাম, আপনি তো রাসূল (ছাঃ), আবুবকর, ওমর ও ওছমান (রাঃ)-এর পিছনে ছালাত আদায় করেছেন। এমনকি কূফাতে আলী (রাঃ)-এর পিছনে পাঁচ বছর ছালাত আদায় করেছেন। তারা কি কুনূত পড়তেন? তিনি বললেন, হে আমার সন্তান, এটা বিদ‘আত।[7]  এই হাদীছে নিয়মিত কুনূত পড়াকে বিদ‘আত বলা হয়েছে। কাজেই নিয়মিত বিতর পড়বে। তবে মাঝেমধ্যে কুনূত ছাড়বে।

সফরের ছালাত :

সফর অবস্থায় ছালাত ক্বছর করতে হবে :

চার রাক‘আত বিশিষ্ট ছালাতকে দুই রাক‘আত করে পড়াকে ক্বছর বলে। ক্বছর আল্লাহর পক্ষ থেকে দান বা রহমত। সফরে সময়ের অভাব থাকে, ক্লান্তি বেশী হয়। কাজেই আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা বিশেষ দয়া। সফরের ছালাতের স্থান এবং ওযূর ব্যবস্থা পাওয়া কঠিন হয়। তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা বিশেষ রহমত। সফরে শান্তিমতো ছালাত আদায়ের মতো পরিবেশ থাকে না। এসব কারণে সকল মুসলিমের জন্য আল্লাহর এ বিশেষ রহমত কবুল করা উচিত। যোহর ও আছর একসাথে পড়তে হবে। যোহরের ছালাত আছরের সময় পড়বে অথবা আছরের ছালাত যোহরের সময় পড়বে। মাগরিবের সময় এশার ছালাত ক্বছর পড়বে অথবা এশার সময় মাগরিবের ছালাত পড়বে। এর নাম ক্বছর ও জমা। অনেক মানুষ রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি চরম ভালোবাসা দেখায় কিন্তু ছহীহ হাদীছে প্রমাণিত রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত মানে না। সফরেও ছালাত পূর্ণ পড়ে, ক্বছর পড়ে না। অথচ ক্বছর পড়লে আল্লাহর সন্তুষ্টি বেশি হবে। কারণ তাতে রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত মানা হবে। এসব লোক হজ্জ করতে গিয়েও রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাত মানে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُبِينًا ‘যখন তোমরা সফর করো, তখন তোমাদের ছালাতে ক্বছর করায় কোনো দোষ নেই। যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, কাফেররা তোমাদেরকে ফিতনায় ফেলবে। নিশ্চয় কাফেররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু’ (নিসা, ১০১)। এই আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ছালাত ক্বছর করার অনুমতি দিয়েছেন।

عَن يعلى بن أُميَّة قَالَ: قلت لعمر بن الْخطاب: إِنَّمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى (أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا) فَقَدْ أَمِنَ النَّاسُ. قَالَ عُمَرُ: عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ: «صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ فَاقْبَلُوا صدقته

ইয়া‘লা ইবনে উমাইয়া (রাঃ) বলেন, আমি একদা ওমর (রাঃ)-কে বললাম, তোমাদের ছালাতে ক্বছর করায় কোনো দোষ নেই। যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, কাফেররা তোমাদেরকে ফিতনায় ফেলবে। অতঃপর মানুষ এখন নিরাপদে রয়েছে। (এখন ক্বছর করতে হবে কেন?) তখন ওমর (রাঃ) বললেন, তুমি যেমন আশ্চর্য হয়েছো, আমিও তেমনি এতে আশ্চর্য হয়েছিলাম। অতঃপর আমি রাসূল (ছাঃ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেন, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দান। আল্লাহ তোমাদের প্রদান করেছেন। অতএব তোমরা আল্লাহর এ দান গ্রহণ করো’।[8]

উক্ত হাদীছ প্রমাণ করে, ক্বছর ছালাত আল্লাহর পক্ষ থেকে দয়াস্বরূপ। ছালাতের রাক‘আত কমিয়ে আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়া করেছেন। যার কারণে রাসূল (রাঃ) আল্লাহর দয়াকে কবুল করার জন্য আদেশ করেছেন। রাসূল (ছাঃ)-এর আদেশ রক্ষা করা উচিত। মুসাফির ক্বছর পড়বে এ কথাই ঠিক।

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ: إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ جَمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَإِنِ ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَزِيغَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى يَنْزِلَ لِلْعَصْرِ وَفِي الْمَغْرِبِ مِثْلَ ذَلِكَ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَإِنِ ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَغِيبَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى يَنْزِلَ لِلْعِشَاءِ ثُمَّ يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا

মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) তাবূক যুদ্ধে অবস্থান করছিলেন। যাত্রা করার পূর্বে যদি সূর্য ঢলে পড়ত, তবে তিনি যোহর ও আছর জমা করতেন। আর যদি সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে যাত্রা করতেন। তখন যোহরকে দেরী করতেন আছর পর্যন্ত। অনুরূপ করতেন মাগরিবের ক্ষেত্রে। যাত্রা করার পূর্বে যদি সূর্য ডুবে যেত, তাহলে মাগরিব ও এশা জমা করতেন। আর সূর্য ডুবার পূর্বে যদি যাত্রা করতেন, তবে মাগরিবকে দেরী করতেন এবং এশার ছালাতের জন্য অবতরণ করতেন। অতঃপর মাগরিব ও এশা জমা করতেন।[9]

উক্ত হাদীছ প্রমাণ করে যোহরের সময় সফর শুরু হলে যোহর ও আছর একসাথে পড়ে নিয়ে বের হবে। মাগরিবের সময় বের হলে মাগরিব এবং এশা একসাথে পড়ে নিয়ে বের হবে। সফরেও দু’টাকেই একসাথে পড়বে। আর এটা করাই হবে সুন্নাত। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন সফর অবস্থায় থাকতেন, তখন যোহর ও আছর জমা করতেন এবং এভাবেই মাগরিব ও এশা জমা করে আদায় করতেন।[10]

ক্বছরের জন্য ৪৮ মাইল নির্ধারণ করা যাবে না :

হাদীছে কোনো দূরত্বের কথা উল্লেখ নেই। কাজেই দূরত্ব নির্ধারণ করে ক্বছর ছালাত আদায় করা যাবে না। অতএব সফর হিসাবে গণ্য করা যায়, এরূপ সফরে বের হলে যখন ছালাতের সময় হবে তখন ক্বছর করবে। আনাস (রাঃ) বলতেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে মদীনায় যোহরের ছালাত চার রাক‘আত পড়েছি। আর যুল হুলায়ফায় গিয়ে আছরের ছালাত দুই রাক‘আত পড়েছি। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) যখন তিন মাইল পথে বের হতেন অথবা নয় মাইল পথে বের হতেন তখন তিনি ক্বছর করতেন।[11]   ইবনে আব্বাস (রাঃ) ক্বছর করতেন মক্কা এবং তায়েফের মাঝে দূরত্ব পরিমাণ পথে এবং উসফান এর মাঝে দূরত্ব পরিমাণ পথে।[12]

উক্ত হাদীছসমূহ প্রমাণ করে ক্বছরের জন্য দূরত্ব নয় বরং সফরই মুখ্য বিষয়। সফর প্রমাণ হলেই ক্বছর করতে হবে আর ৪৮ মাইলের হাদীছ যঈফ।[13]

(চলবে)

[1]. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৭০২১; ইরওয়াউল গালীল, হা/৪২৭।

[2]. ইরওয়াউল গালীল, হা/৪২৭।

[3]. মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, ২/২১৩;  ইরওয়াউল গালীল, হা/৪২৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।

[4].  ছহীহ বুখারী, হা/২৯৩৩; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৪২।

[5]. ছহীহ বুখারী, হা/৮০৪; ছহীহ মুসলিম, হা/৬৭৫।

[6]. তিরমিযী, হা/৪৬৪; আবুদাঊদ, হা/১৪২৫; নাসাঈ, হা/১৭৪৫; মিশকাত, হা/১২৭৩, সনদ ছহীহ।

[7]. তিরমিযী, হা/৪০২; মিশকাত, হা/১২৯২; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১২১৯।

[8]. ছহীহ মুসলিম, হা/১৬০৫; মিশকাত, হা/১৩৩৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১২৫৭।

[9]. আবুদাঊদ, হা/১২০৮; মিশকাত, হা/১৩৪৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১২৬৬।

[10]. ছহীহ বুখারী, হা/১১০৭; মিশকাত, হা/১৩৩৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১২৬১।

[11].  ছহীহ মুসলিম, বুলূগুল মারাম, হা/৪২১।

[12]. মুওয়াত্ত্বা মালেক, বুলূগুল মারাম, হা/৪২৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য।

[13]. ইরওয়া, হা/৫৬৫।

Friendship Test!

friends can break your heart too…

He who uploads his photo with you without thinking your social status or without thinking whether it looks good or not, is a real friend…

Without hesitation, to whom you can express your feelings is your true friend…

He who likes you to receive a special benefit, is not your true friend…

Jealousy is the proof of love but not friendship. He who jealous of you is not your real friend. Remember, life is not a movie like 3 idiots or Dill chahta hai or zindagi na milegi dobara…

04.02.2020

আমার একুশে ফেব্রুয়ারি…

একুশে ফেব্রুয়ারির প্রকৃত তাৎপর্য যখন থেকে বুঝতে শিখি নি তখন থেকেইে একুশে ফেব্রুয়ারি অামার কাছে বিশেষ দিন বলে মনে হতো। নব্বই দশকের শুরুতে জন্ম হওয়ার দরুণ তখনও একুশে ফেব্রুয়ারি অান্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পায় নি কিন্তু তবুও এই দিনটি বিশেষ মর্যাদা সহকারেই অামরা পালন করতাম। খুব ছোট বেলায় একুশে ফেব্রুয়ারির অাগের রাতে শহীদ মিনার বানানোর জন্য উঠে পড়ে লাগতাম। কখনো ইট দিয়ে, কখনো কাদা মাটি দিয়ে, কখনো বা বাঁশের চটা-কাগজ দিয়ে শহীদ মিনার বানানো হত। সেই সাথে চলতো লাউড স্পিকারে দেশাত্মবোধক গান অবিরাম। শহীদ মিনারের চারপাশে দড়ি দিয়ে বাউন্ডারি দিয়ে দড়িতে লাল-নীল-সবুজ-বেগুনী কাগজ লাগানো হতো যাতে শ্রী বৃদ্ধি পায়। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে শহীদ মিনারে ফুল দিতাম। অার পাড়ার অন্যান্য শহীদ মিনারের দিকে লক্ষ রাখতাম এটা দেখতে যে, কার শহীদ মিনারে বেশি ফুল জমা হলো। এ যেন অন্যরকম এক খুশির প্রতিযোগিতা। সেই সাথে চলতো পিকনিকের মাধ্যমে বিশেষ খাবারের আয়োজন।

পাহাড়ের উপর অবস্থিত সাস্টের শহীদ মিনারের সামনে বন্ধুদের সাথে…

“মনে অাছে, ছোটো বেলায় একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনের অন্যতম অায়োজন ছিল লটারির ব্যবস্থা করা। দশ টাকার লটারি ফটোকপি করে একেকটা ২টাকা করে বিক্রি করতাম। দেখা গেল, ৭৫ টা লটারি বিক্রি হলো কিন্তু যে টাকা হলো তা দিয়ে সবগুলো পুরষ্কার দেওয়া যাচ্ছে না; তখন অামি নিজে ৫০-৬০ টাকা যোগ করে পুরষ্কার কিনে লটারির ড্র অনুষ্ঠান করতাম। ত্যাগের মাধ্যমেও যে অানন্দ পাওয়া যায় তা তখন থেকে বুঝতে শুরু করলাম। পুরষ্কার পাচ্ছে অন্যজন অথচ খুশি লাগছে আমার- এ আনন্দের যেন কোনো সীমা নেই!!!”

যতদূর মনে পড়ে সর্বশেষ শহীদ মিনার বানিয়েছি ২০০৫ সালে যখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র। ২০০৬ সালে বানানো হয় নি কারণ কিছুদিন পরে এস.এস.সি পরীক্ষা ছিল; ২০০৭ সালেরে একুশে ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা সফরে কুয়াকাটা ছিলাম; ২০০৮ সালে হয় নি এইচ.এস.সি পরীক্ষা এবং বড় হয়ে যাওয়ার কারণে; ২০০৯ সালের পরে ঢাকা চলে আসার কারণে আর কখনোই শহীদ মিনার বানানো বা একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করা হয় নি। এই মুহূর্তে ২০১৮ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির কথা মনে পড়ছে যেদিন আমি সেন্ট মার্টিন দ্বীপে অবস্থান করছিলাম। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সেদিন সত্যিই সেন্ট মার্টিনে এক উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।

বয়সে বড় হয়েছি, আশেপাশের সবকিছু পরিবর্তিত হয়েছে। সবকিছু ডিজিটাল হয়েছে বটে কিন্তু আগেরকার সেই অনাবিল আনন্দের বড়ই অভাব। তখন মোবাইল ছিল না, কম্পিউটার ছিল না, ইন্টারনেট ছিল না- কিন্তু তবুও অনাবিল আনন্দের যেন কোনো অভাব ছিল না। কিন্তু এখন সবকিছু থেকেও কী যেন নেই, কী যেন হারিয়ে খুঁজি সর্বদা। তাই তো কবিগুরু বলেছেন-

দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না–

  সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।

          কান্নাহাসির বাঁধন তারা সইল না–

              সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি…

 ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

কাল্পনিক কল্পনা

হঠাৎ অামাদের বাসায় বেজবাবা সুমন এবং এবির অাগমন তাও একইসাথে। উনাদের দুজনকে একসাথে দেখে অামার চক্ষু তো চড়কগাছ!!!! দুজনই কেমন যেন উদাস হয়ে অাছেন!!!!

“বেজবাবা অামাকে জিজ্ঞেস করলেন, অামি তার উপর এত ক্ষেপা ক্যান??? ”

কাল্পনিক কল্পনা…

উত্তরে কী বলেছি মনে করতে পারছি না। তবে যে কারণেই ক্ষ্যাপা হইনা কেন, সেই দুজন তো ঠিকই একই সাথে এসেছে!!!!! এরপর দুজনের সাথে অামি অারো কিছু সময় কাটিয়েছি কিন্তু কী হয়েছে তা অার মনে পড়েনি। সকালে ঘুম ভাঙার পরে এই স্বপ্নের কথা মনে পড়াতে অামিও উদাস হয়ে গেছি!!! এটা অামি কী দেখলাম!!!! তবে যা-ই দেখিনা কেন বেজবাবার উপর অামার অার রাগ অভিমান নাই। কেউ ভুলের ঊর্ধে না। অাবার কেউ ই জীবিত ফিরে যাবে না এই পৃথিবী থেকে। তবে একটা কথা ভেবে অানন্দ লাগছে যে, তাদের দুজনের সাথে অামার কিন্তু সত্যিই দেখা হওয়ার সুযোগ অাছে। দুনিয়া তে গানবাজনা হারাম হলেও, অাল্লাহ্ যদি অামাদের তিনজনকেই জান্নাতে নেন তাহলে দেখা যাবে- জান্নাতের কোন এক নদীর পাড়ে গাছের নিচে বসে অামরা সত্যিই অাড্ডায় মেতে উঠেছি। বেজবাবা এবং এবি গাইছেন এবং অামি উপভোগ করছি…. ইনশা-অাল্লাহ্।

২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

শ্যামল ছায়া- হুমায়ূন আহমেদ

বইটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় অন্যপ্রকাশ প্রকাশনী থেকে ২০০৩ সালের মার্চ মাসে। আমি যে বইটি সংগ্রহ করেছি তা তৃতীয় মুদ্রণ এপ্রিল ২০১৭ এর একটি কপি। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ। বইয়ের প্রচ্ছদটি সবুজ রঙের একটি নারিকেল পাতার আবরণ তার উপর বসে আছে ছোট্ট একটি প্রজাপতি। বটবৃক্ষের নিচে যে শীতল  ছায়া থাকে তা শুধু মানুষকে নয় বরং সকল প্রাণীকুল কে এক প্রশান্তির ছোঁয়া দিয়ে যায়- এবং তারই একটি প্রতিফলন শ্যামল ছায়া। বইটি মোট ৪৮ পৃষ্ঠার। একই নামে লেখক এর একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র রয়েছে। তবে মূল বইটিতে লেখক মুক্তিযুদ্ধ, তৎকালীন সংকট, ব্যক্তিগত চিন্তা ধারা এবং পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন সুনিপুণভাবে। 

লেখক বইটিতে কয়েকটি চরিত্রের বর্ণনা করেছেন যেমন- আবু জাফর শামসুদ্দীন, হুমায়ূন আহমেদ, হাসান আলি, আব্দুল মজিদ, আনিস সাবেত সহ আরো অনেকের। তবে যে নাম কয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের শিরোনাম দিয়ে লেখক তাদের মুক্তিযুদ্ধের কারণ, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দেশ নিয়ে পরিকল্পনা বিশেষ ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যান্য যে গ্রন্থ পুস্তক দেখা যায় তাতে দেখা যায় মুক্তিবাহিনী কখনো পাকবাহিনীর কোন একটি আস্তানা একবার এই আক্রমণ করে দখল করে নিয়েছে। এই বইয়ের ঘটনার বিশ্লেষণ একটি স্থান যার নাম মেথিকান্দা। যেখানে গল্পের চরিত্রগুলো একবার নয়, দুইবার নয়, তিনবার নয়, বরং পাঁচ বার আক্রমণ চালিয়ে তারা শত্রুমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু শেষ অবধি বেশ কয়েকজন সহমুক্তিযোদ্ধাদেরকে হারিয়ে মনোবল অটুট রেখে মেথিকান্দা নামক ভয়ঙ্কর সেই পাকিস্তানি ক্যাম্পটি শত্রুমুক্ত করে গল্পের গেরিলা বাহিনী। এর সাথে রয়েছে প্রত্যেকটি মুক্তিযোদ্ধার পারিবারিক কাহিনী। তাদের সদস্যদের চেয়েও তাদের দেশ এখন তাদের সামনে বড়; একটি অঙ্গীকার হলেও সেই স্বাধীন দেশে তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে  কিভাবে তাঁদের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করবে তার চিত্র ফুটে উঠেছে মুক্তিযোদ্ধাদের অবসর সময়ে। এই গল্পে মুক্তিযোদ্ধারা গ্রাম অঞ্চলে তাদের অপারেশন পরিচালনা করে। কিভাবে অন্ধকার রাত, অপরিচিত কাদা মাটি, সাপ-বিচ্ছু, শামুক এর ভয় উড়িয়ে শুধু সামনের নিশানাটিকেই যেন এক একমাত্র গন্তব্য হিসেবে এগিয়ে চলে নিজের জীবন এবং স্বপ্ন বাজি রেখে- সেটার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা। গল্পের মুক্তিযোদ্ধারা যখন এক এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকা যায় গ্রামবাসীরা কিভাবে মুক্তি বাহিনীর লোকদের আমন্ত্রণ জানায়, তাদের সেবা-যত্ন করে তাদের সহযোগিতা করে, তার এক বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। 

“একেক জন মুক্তিযোদ্ধা শুধু যে যুদ্ধ করবার জন্যই গল্পের চরিত্র হয়েছেন তা নয়। তারা বিশ্বাস করে কুসংস্কার। তারা ভালোবাসে বৃষ্টিতে ভিজতে। তারা ডুবে যেতে চায় জোছনায়, পূর্ণিমায়। এমনকি একজন মুক্তিবাহিনীর সদস্যের সাথে অন্য একজন মুক্তিবাহিনীর সদস্যের যে সবসময় মতের মিল হয়েছে তা নয়। বরং মতের মিল অমিল থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থকে বড় করে ভেবে মুখ বুজে ট্রিগারে আঙুল চালিয়ে যেতে হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টা এত সার্বিক ছিলো যে, শুধু যে শিক্ষিত লোকের মতামতই প্রাধান্য পেয়েছে তা নয়; বাস্তব অভিজ্ঞতা যে মৃত্যুকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে পারে তা শ্যামল ছায়ায় বিশ্লেষণ করেছেন লেখক।”

সচরাচর হুমায়ূন আহমেদের লেখায় আমি ব্যক্তিগতভাবে সমাপ্তি খুব কমই পেয়েছি, উনার লেখায় ঘটনা চলমান থাকে জীবনের মত। জীবনও এক সময় মৃত্যুর কাছে থেমে যায়। কিন্তু এই বইটিতে শ্যামল ছায়া যেমন মানুষের জীবনকে আনন্দময় করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় তেমনি লেখক বোঝাতে চেয়েছেন গল্প যেমন শেষ হয় নাই, তেমনি মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও কিছু কিছু যুদ্ধ সারা জীবন চালিয়ে নেওয়ার জন্য। যতক্ষণ জীবন আছে ততক্ষণ যুদ্ধ চলবেই…

রিভিউ লিখেছেন বড় ভাই-

Faisal Siddiqui

Advocate

Supreme Court of Bangladesh

Date- 02.02.2020

অামার বন্ধু নুর…

নুর হোসেন হলো আমার একমাত্র বন্ধু যাকে আমি সর্বপ্রথম ‘তুই’ করে বলতে শুরু করি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ১ম দিনে ১ম পরিচিত ব্যক্তির নাম মোঃ নুর হোসেন। দিনটি সম্ভবত ২০০৯ সালের মে মাসের ১ম সপ্তাহের যেকোন দিন। আমার এখনো মনে আছে, আমি ক্লাসরুমে ঢুকে প্রথম সারির একটি চেয়ারে বসে আছি এমন সময় একটা ছেলে এসে আমাকে বলল-

: আপনার মোবাইলটা একটু দিবেন!! আমি আমার সিমটা ঢুকিয়ে একটু কথা বলবো!

: আমি বললাম, ভাই সিম ঢুকানো লাগবে না; আপনি আমার ফোন দিয়ে কথা বলেন।

পরে পরিচয় পর্ব সম্পন্ন হলো। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ১ম মাস সে মিরপুর থেকে এসে ক্লাস করতো। এক মাস পরে সে নাখালপাড়া চলে আসে। যেহেতু আমিও নাখালপাড়া থাকতাম তাই এরপর থেকে আমরা একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করলাম। আমরা মহাখালি মেট্রপলিটন হাসপাতালের সামনে একত্রিত হয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতাম। মহাখালি থেকে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ির বাস ভাড়া ছিল মাত্র ২ টাকা এবং হেঁটে যেতে সময় লাগতো প্রায় ২০ মিনিটের মতো। আমি সর্বদা হেঁটে যেতে চাইতাম কিন্তু নুর সর্বদা আমাকে জোর করে বাসে উঠাতে চাইতো। আমি আসলে বাসে উঠতে চাইতাম না বাসের অস্বাভাবিক ভিড়ের কারণে।

একটি বিশেষ কারণে আমরা সবাই নুর কে নিয়ে প্রায়ই হাসাহাসি করতাম। কারণটা হলো, নুরের থানার নাম। নুর কখনোই তাঁর থানার প্রকৃত নাম বলতে চাইতো না (এখনো বলে না)। থানার নাম জিজ্ঞেস করলে বলতো তাঁর থানার নাম পঞ্চগড় সদর। যদিও থানার আসল নাম “বোদা”। 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সে কোনাদিন নিজে কোনো অ্যাসাইনমেন্ট বা রিসার্স মনোগ্রাফ করে নাই। সব আমি করে দিয়েছি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষাসহ অন্যান্য সকল পরীক্ষা আমরা একত্রে দিয়েছি। সহকারী জজের ভাইভার সময় পরীক্ষার হলের বাইরে সে ছিল আমার একমাত্র অভিভাবক।

নুর হোসেন হলো আমার এমন বন্ধু যাকে আমি কোন কথা চিন্তাভাবনা ছাড়াই বলতে পারি। তাইতো সে যখন জনৈক মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলে, ও কী মনে করবে এটা না ভেবেই জিজ্ঞেস করতে পারি যে- তুই যার সাথে ফোনে কথা বলতেছিস সে কী তোরে দেখছে একবারো????? অথচ, এমন বর্ণবৈষম্য মূলক কথা যদি আমি অন্য কোনো বন্ধুকে জিজ্ঞেস করতাম তাহলে সে অবশ্যই রেগে যেত।

নুর হোসেনেরে একটা ভাল এবং খারাপ গুণ হলো তাঁকে আমি কখনোই রাগ করতে দেখি নি। এখন একটা প্রশ্ন থাকতে পারে যে, রাগ না থাকা তো ভাল তবে খারাপ গুণ বলছি কেন। খারাপ বলছি এই কারণে যে, রাগ হলো অামাদের অাবেগের বহিঃপ্রকাশ। রাগ কম থাকা ভাল কিন্তু একেবারেই না থাকা বা খুব বেশি থাকা ভাল নয়। যাদের কোনো রাগ নেই তারা হলো মিসকে শয়তান। অবশ্য বর্তমানে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে মিসকে শয়তান হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

নুর এখন ঢাকা জজ কোর্টে প্র্যাকটিস করছে। কয়েক বছর স্ট্রাগলের পরে সে এখন বেশ ভালোই অাছে সেখানে। অামি সর্বদা তাঁর পেশাগত জীবনের অায় উন্নতি কামনা করি এবং সে যেন এভাবেই মানুষের সেবা করে যেতে পারি সেই দোয়া করি।

সবশেষে নুর মামার উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাই-

মামা, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দিনগুলোকে খুব মিস করি। কতদিন তোর সাথে নাখালপাড়া রেললাইন বা মহাখালি রেল লাইনে বসে অাড্ডা দেওয়া হয় না; কতদিন হাতিরঝিল যাই না; কতদিন একসাথে বিড়ি টানি না; কতদিন একসাথে কোথাও ঘুরতে যাই না। ভাল থাক, সুখে থাক। অার তাড়াতাড়ি বিয়ে করে এসব অাকাম কুকাম করা বাদ দে।

Shah Sharoar Shalf Shaoun

অামার এই ক্ষুদ্র জীবনে যতজন মানুষের সান্নিধ্যে অাসতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করেছি, তাদের মধ্যে শাওন ভাই অন্যতম। তিনি একজন নিপাট ভদ্রলোক এবং উনার মতো সৎ, যোগ্য, সাদা মনের মানুষ এই যুগে পাওয়া দুষ্কর। ৩৬ তম বিসিএসের কোচিং করার জন্য যখন ফার্মেগেটে কনফিডেন্স কোচিংয়ে ভর্তি হই তখন থেকে শাওন ভাইয়ের সাথে পরিচয়। উনার অার অামার মধ্যে যেসব বিষয়ে মিল অাছে তার মধ্যে অন্যতম হলো অামরা দু’জনই এসেছি ল’ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এবং জীবনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে অামরা দু’জনই এক ধরণের হতভাগা। যাক সেসব বিষয়ে পরে একদিন বলা যাবে।

শাওন ভাইয়ের সাথে অামি…

শাওন ভাইকে অামি অামার পরিচিত জন না বলে বরং বন্ধু হিসেবেই বিবেচনা করবো। হুমায়ূন অাহমেদের বলপয়েন্ট গ্রন্থে তিনি বলেছিলেন, উনার বন্ধু নাই অাছেন শুধু পরিচিত জন। অামিও ভেবে দেখলাম অামি সত্যিকার অর্থে কারো বন্ধু হতে পারি নি বা কাউকে বন্ধু বানাতে পারি নি; তবে হাতেগোণা দু-চার জনকে যাদেরকে  বন্ধু মনে করি, শাওন ভাই তাদের মধ্যে অন্যতম।

গত দুই বছর অামি ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি চ্যাটিং উনার সাথেই করেছি। এছাড়া ঢাকা থাকলে অামরা প্রায়ই দেখা-সাক্ষাৎ করি। অামি সর্বদা দোয়া করি অাল্লাহ্ যেন শাওন ভাইকে একজন ন্যায় বিচারক বা একজন বিসিএস ক্যাডার হিশেবে কবুল করেন, অামিন। ভাই, সর্বদা শুভকামনা।

০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

তোমার মাঝে স্বপ্নের শুরু, তোমার মাঝে শেষ!!!

১৯৯২ সালের গ্রুপ পর্বের খেলায় পাকিস্তানের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। পাকিস্তান একেবারে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাড়িয়ে পরবর্তীতে ঠিকই বিশ্বকাপ জিতে। কারণ তাদের একজন ইমরান খান ছিল।ইমরান খান নাকি সবসময় বিশ্বাস করতো এই বিশ্বকাপ তারাই জিততে যাচ্ছে।বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে তিনি বলেছিলেন তার ক্যান্সার হসপিটাল প্রতিষ্ঠার জন্য এই বিশ্বকাপ জেতা খুবই প্রয়োজন ছিল।

১৯৯৬ সালের আগের ৫টি বিশ্বকাপ খেলে শ্রীলংকা কখনোই প্রথম পর্বের গন্ডি পেরোতে পারেনি। অথচ তারাই কিনা কি দাপটের সাথে খেলে ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের নতুন করে প্রমান করে ৯৬ এর বিশ্বকাপ জিতে। ৯৬ এর বিশ্বকাপে উদ্ভব হলো এক নতুন শ্রীলংকার । ক্রিকেট বিশ্বের সাথে পরিচয় হয় এক মাতারা হারিকেনের (সনাত জয়সুরিয়া), যে কিনা কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমনকে লন্ডভন্ড করে দিতো। শ্রীলংকারে ছিলো একজন ডি সিলভা, ছিল একজন অর্জুনা রানাতুঙ্গার মতো অধিনায়ক।তবে তাদের সবচেয়ে যেটা বেশি ছিল সেটা হলো আত্মবিশ্বাস, তারা বিশ্বাস করতো যে তারা পারবে। অথচ ঐসময়ে তাদের দেশের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিলনা। কিন্তু তারা বিশ্বকাপ জিতে দেশের মানুষের মনে সুখের প্রলেপ দিতে পেরেছিলেন। তখন থেকে ক্রিকেট বিশ্বে আবির্ভাব ঘটে এক নতুন শ্রীলংকার।

বাংলাদেশ এবার তাদের ৫ম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। গত বিশ্বকাপগুলোতেও আমাদের পারফরমেন্স আহামরি কিছু নয়। দেশের সার্বিক অবস্থা ভালোনা। প্রতিদিনই পেট্রোল বোমার বলি হচ্ছে দেশের অসহায় মানুষগুলো।প্রায় সব ক্ষেত্রেই আমাদের দেশের মানুষগুলো দুইভাগে বিভক্ত।একমাত্র বাংলাদেশ যখন ক্রিকেট খেলে তখন কোন বিভক্তি থাকেনা। তখন কোন আওমীলিগ-বিএনপি থাকেনা, তখন দলমত নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশ দলের সমর্থক হয়ে যায়।বাংলাদেশ ভালো খেললে আমরা হাসি, খারাপ খেললে আমরা কাঁদি। আমাদের খেলোয়াড়েরা কি পারবেনা দেশের মানুষের জন্য এক পশলা সুখের বাতাস বয়ে আনতে !!!!! আমাদের হয়তো একজন ইমরাস খান নেই কিন্তু একজন সাকিব আল হাসান তো আছেন, আমাদের হয়তো জযসুরিয়া-ডি সিলভা-রানাতুঙ্গারা নেই কিন্তু তামিম-মুশফিক-মাসরাফিরা তো আছেন।আমি কিন্তু মনে প্রাণে বিশ্বাস করি সাকিব-তামিম-মুশফিক-মাশরাফিদের এবার বিশ্ববাসীরা নতুন করে চিনবে।আমরা করবো জয় ইনশা-আল্লাহ্ । স্বপ্ন দেখতে দোষ কোথায়???? সপ্ন আছে বলেই তো আমরা আছি। শত সমস্যায় জর্জরিত বাংলবদেশের মানুষেরা এক পশলা সুখের বৃষ্টির স্বপ্ন দেখতেই পারে।

                                       ”তোমার মাঝে স্বপ্নের শুরু, তোমার মাঝে শেষ

                                       ভাললাগা ভালবাসা তুমি, আমার বাংলাদেশ……..”

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

এ কালের সুপারহিরো!!!

প্রযুক্তির কল্যানে হোক বা সময়ের বিবর্তনে হোক অথবা পরিচালকদের উদারতার কারণেই হোক এটা সবাইকে এক বাক্যে স্বীকার করতে হবে যে বাংলা সিনেমার সাকিব খান বা অনন্ত জলিলেরা এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর নায়ক। তাইতো সাকিব খান মায়ের অপারেশনের দুই লাখ টাকা দুই দিন রিকশা চালিয়ে শোধ করে দিতে পারেন অথবা পৃথিবীর আর কোন হিরো কি পারবে অনন্ত জলিলের মত নিজের বুক চিরে নিজের হাত দিয়ে হৃদয় টেনে বের করে দেখাতে!!!! চ্যালেঞ্জ রইলো শাহরুখ খান অথবা টম ক্রুজদের প্রতি। আপনাদের বুকের পাটায় বল থাকলে রিকশা চালিয়ে দুই দিনে দুই লাখ টাকা শোধ করে দেখান অথবা নিজের বুক চিরে স্বহস্তে হৃদয় টেনে বের করে দেখান। তবে বাংলার নায়কদের এই অসীম ক্ষমতা একদিনে হয়নি বরং এর জন্য পূর্ববর্তী নায়কদের অনেক কাঠ খড় ও আত্মত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এই মুহূর্তে দুজন নায়কের কথা খুব মনে পড়ছে যারা ছিল নামে মাত্র নায়ক কিন্তু তাদের কোন সুপার পাওয়ার ছিল না। এমনকি তারা এতই দয়ালু ছিলেন যে তারা কখনোই খলনায়কদের গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেনি শুধু আজীবন অভিশাপ দিয়ে গেছেন। তারা এতোই সৎ ছিলেন যে অভাবে না খেতে পেয়ে মরেছেন তবুও অসৎ পন্থা অবলম্বন করেননি বা স্মাগলার ছেলের কাছ থেকে একটি টাকাও নেননি। নায়ক দুজন হলেন আনোয়ার হোসেন এবং প্রবীর মিত্র। যতদূর মনে পড়ে ১৯৯৭ সালের আগে আমাদের দেশের একমাত্র বাংলা চ্যানেল বলতে শুধু বিটিভি ছিল। তখন প্রতি শুক্রবার দুপুরে বাংলা সিনেমা প্রচারিত হতো বিটিভিতে। সবাই সিনেমা দেখার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতো। যেহেতু বয়স কম ছিল তাই মারপিঠের সিনেমা গুলোই বেশি ভালো লাগতো। কিন্তু মেজাজটা তখনই বিগড়ে যেতো যখন দেখতাম ঐ ছবিতে আনোয়ার হোসেন অথবা প্রবীর মিত্র আছেন কারণ তাদের কখনোই মারপিঠের দৃশ্য হবেনা। অথচ তারা দুজনই সিরাজউদ্দৌলা চরিত্র অভিনয় করেছেন। যখন বিটিভি তে সিরাজউদ্দৌলা সিনেমা দেখাতো তখন অনেক কষ্ট পেতাম এই ভেবে যে এটা কেমন নায়ক যে প্রতিশোধ না নিয়েই মৃত্যু বরন করছে অনেক মায়া হতো তখন উনাদের প্রতি। আমার সামর্থ এবং ক্ষমতা থাকলে আনোয়ার হোসেন কে নিয়ে বাংলাদেশী ধুম তৈরী করতাম এবং পুনরায় এ যুগের সিরাজউদ্দৌলা তৈরি করে উনাদের দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়াতাম। তবে বাংলা সিনেমা এখন অনেক এগিয়েছে আমাদের নায়কদের এখন অসীম ক্ষমতা। তাইতো আমাদের আছে সকল অসম্ভব কে সম্ভব করার মতো নায়ক অন্ন্ত জলিল এবং ঢাকা মেডিকেল থেকে বি.এ. এবং বুয়েট থেকে এম.এ. পাশ করে চৌধুরী সাহেবের মেয়েকে বিয়ে করে বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণের যোগ্যতা সম্পন্ন নায়ক সাকিব খান। সবশেষে এটুকুই বলি দেশী পন্য দেখে হোন ধন্য।
১৮ জুলাই, ২০১৪

আমার হাইকোর্ট ভাইভা…

আমার হাইকোর্ট ভাইভা

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, তারিখে ১২তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। যে কারণে এমনিতেই মুষড়ে পড়েছিলাম। এরই মধ্যে হঠাৎ করে হাইকোর্ট এনরোলমেন্ট পরীক্ষার ভাইভা নেওয়ার সময়সূচী প্রকাশিত হয়। অামার পরীক্ষার সময় নির্ধারিত হয় ৯ মার্চ ২০১৯ তারিখে। জুডিসিয়ারি রেজাল্টের কারণে এমনিতেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। এরই মধ্যে অাবার এমন পরীক্ষা এসে হাজির যেটাতে কৃতকার্য হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নাই অামার কাছে। যাই হোক, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে লাগলাম। অার বার কাউন্সিলে খোঁজ নিলাম যে, অামাদের জজ কোর্টের অাইনজীবী হওয়ার সনদ, ভাইভা তে নেওয়া বাধ্যতামূলক কি না। বার কাউন্সিল থেকে অামাদের নিশ্চিত করলো যে, অামরা যারা ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে এনরোলড্ হয়েছি তাদের যেহেতু এখনো বার কাউন্সিল থেকে অফিসিয়ালি সনদ দেওয়া হয়নি, তাই ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে যারা অাইনজীবী হয়েছেন তাদের ভাইভা বোর্ডে অাইনজীবীর সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক না। উল্লেখ্য যে, অামাদের পরীক্ষার অাগে ফর্ম পূরণের সময়ও সনদ লাগে নাই; ২০১৪ এর অাগে পাশ করা সকলের সনদ লেগেছে। মার্চের ১ অথবা ৩ তারিখে ভাইভা শুরু হলো, তখনও ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে পাশ করা কারো সনদ লাগে নাই। এই কারণে অামি অার অাইনজীবীর সাময়িক সনদ উত্তোলন করিনি।

অাজ ৯ মার্চ, ২০১৯- শনিবার। সকালে উঠে গোসল করে, নামাজ-কুরঅান পড়ে, রেডি হয়ে হাইকোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। সকাল ৮.৪৫ এর দিকে সুপ্রীম কোর্ট অডিটোরিয়াম এর সামনে উপস্থিত হলাম। নয়টা থেকে ভাইভা শুরু হওয়ার কথা কিন্তু এখনো গেট বন্ধ অর্থাৎ মাননীয় বিচারপতি মহোদয়গণ এবং বার কাউন্সিলের কেউ ই অাসে নাই। অামি খুব বেশি নার্ভাস না বরং অাত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে- যা ই জিজ্ঞেস করুক না কেন ইনশা-অাল্লাহ্ পারবো। ইতোমধ্যে, কয়েকজন ক্লাসমেট এবং ভার্সিটির বড় ভাইদের সাথে দেখা হলো। কথাবার্তা হলো। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেছিলাম। বার কাউন্সিলের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির লোকজনও চলে অাসলো, সেই সাথে একটু পরে মাননীয় বিচারপতি মহোদয়গণও। ভাইভা শুরু হলো সকাল ১০টার দিকে। অামার রোল নাম্বার ছিল ১***, ওই দিন অামি ১০নং ভাইভা পরীক্ষার্থী ছিলাম। অামার রোল কল করা হলো, ভেতরে ঢুকে সিগনেচারশীটে সিগনেচার করে ভাইভা বোর্ডে ঢুকার জন্য অপেক্ষায় অাছি। দুইটা বোর্ড ছিল এবং এক বোর্ড থেকে অারেক বোর্ডের দূরুত্ব ১০ মিটারের মতো, মাঝে কোনো পর্দা বা দেয়াল নাই। খালি চোখে দেখা যায় অারকি। বোর্ড-১ এর সদস্য ছিলেন ৩জন যথাক্রমে- অাপিল বিভাগের বিচারপতি অাবুবকর সিদ্দিকী স্যার, হাইকোর্টের বিচারপতি ভবানীপ্রসাদ সিংহ স্যার এবং জনাব অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে অালম স্যার। এবং বোর্ড-২ এর সদস্যগণ হলেন যথাক্রমে- অাপিল বিভাগের বিচারপতি মোঃ নুরুজ্জামান স্যার (এনরোলমেন্ট কমিটির প্রধান), হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক অাল জলিল স্যার এবং বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়্যারমান সিনিয়র অ্যাডভোকেট জনাব ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন স্যার।

সালাম দিয়ে বোর্ড-২ তে ঢুকলাম। ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন স্যার জিজ্ঞেস করলেন, জেলা কোথায়? বললাম জেলার নাম। মাননীয় বিচারপতি মোঃ নুরুজ্জামান স্যার জিজ্ঞেস করলেন, সনদ কোথায় অাপনার? বললাম, স্যার অামাদের জন্য সনদ অানা বাধ্যতামূলক করা হয়নি এবং বার কাউন্সিলে খোঁজ নিয়েছিলাম, ওখান থেকে বলা হয়েছে যে যারা ২০১৪ এবং ২০১৬ তে অাইনজীবী হয়েছেন তাদের সাময়িক সনদ লাগবে না। নুরুজ্জামান স্যার, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহফুযুল মুরশেদ সাহেবকে ডেকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। মাহফুযুল সাহেবও বললেন, স্যার ২০১৪ এবং ২০১৬ তে যারা অ্যাডভোকেট হয়েছেন তাদের এখনো বার কাউন্সিল অানুষ্ঠানিকভাবে সনদ প্রদান করে নাই বলে উনাদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য না। (উল্লেখ্য যে, ১- ৮ মার্চ পর্যন্ত এই নিয়মেই পরীক্ষা হয়েছে এবং এখনো বোর্ড-১ এ এভাবেই পরীক্ষা নিচ্ছে।) নুরুজ্জামান স্যার বললেন, না না সনদ ছাড়া কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না। অামাকে বললেন, ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নাই; অাবেদন করে যান এবং পরে সনদ নিয়ে অাসলে পরীক্ষা নেওয়া হবে!!!!! অামি তো কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। ঘাবড়ানোর কোনো কারণ নাই মানে!!!! উনি বলেন কী???? যাই হোক, তর্ক করলে দেখা যাবে ওখানেই ফেল করায় দিলো। তাই কথা না বলে, অাবেদনপত্র লিখে, জমা দিয়ে বাইরে বের হয়ে অাসলাম। ভাবতে লাগলাম অাব্বাকে কী জবাব দিব!!!! জীবনে এতোটা অসহায় অার কোনোদিন হইনি। অারো অবাক হলাম যখন শুনলাম বোর্ড-১ এ সনদ ছাড়াই পরীক্ষা নিচ্ছে!!!! এক দেশে দুই নীতি অারকি!!! অথচ উনারাই অাবার নিজেদের জাস্টিস অব দ্যা পিচ বলে দাবি করেন!!! এই হলো উনাদের অাইনের প্রতি শ্রদ্ধা!!!! এই হলো অাইনের শাসন!!! ওইদিন অামার মতো ১০-১২ জনের এমন অবস্থা হয়েছিল, যাদের সনদের কারণে পরীক্ষা নেওয়া হয় নাই। অারো মজার ব্যাপার হলো, ভার্সিটির এক ছোট ভাই অামার পরিণতির কথা শুনে বার কাউন্সিলের এক স্টাফ কে কয়েকশ টাকা ঘুষ দিয়ে বোর্ড-১ এ পরীক্ষা দিয়েছে; অথচ তার পরীক্ষা ছিল বোর্ড-২ তে। পরীক্ষা দিতে পারিনি এটা নিয়ে অামার কোনো অাফসোস থাকতো না, যদি না দুই বোর্ডে দুই রকম নিয়ম না হতো!!! অার তাছাড়া এতদিন এই নিয়ম ছাড়াই পরীক্ষা নিয়েছে।

পরেরদিন রবিবার খুব সকালে বার কাউন্সিলে গিয়ে ২০০০ টাকা জমা দিয়ে সাময়িক সনদ উত্তোলনের জন্য অাবেদন করলাম। কিন্তু ওখান থেকে বলা হলো, সনদ প্রস্তুত করতে ৪-৫ দিন সময় লাগবে। কিন্তু এতদিন তো অামি দেরি করতে পারবো না, অামার তো খুব দ্রুত সনদ লাগবে। তিনজন একিতত্র হয়ে, বার কাউন্সিলের এক পিয়নের সাথে কথা বললাম যার নাম ছিল রাব্বী। সে বলল, ১৫০০ টাকা করে দিলে অাজকে বিকেলের মধ্য সনদ পাবেন। কী অার করা, অামরা তো জিম্মি!!!! রাব্বীকে তিনজনে মিলে ৪৫০০ টাকা দিলাম। এই বদমাইশ কে কোনোদিন অামি ভুলতে পারবো না। জীবন প্রথমবার অামি কোথাও ঘুষ দিলাম। নিজেকেই যেন ক্ষমা করতে পারছিলাম না। রাব্বীর চেহারা দেখে বিখ্যাত অপরাধ বিজ্ঞানী লমব্রসোর থিওরির কথা মনে পড়ে গেল। অপরাধ বিজ্ঞান পড়ার সময় জেনেছিলাম যে, লমব্রসো অপরাধীদের বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্টের কথা বলেছিলেন, যেমন- বড় কাঁধ, অস্বাভাবিক অাকৃতির কান, বিশেষ ধরণের কপাল ইত্যাদি। তখন এই থিওরিকে ভুয়া মনে করতাম। ভাবতাম চেহারার সাথে অপরাধের অাবার কী সম্পর্ক!!!! কিন্তু রাব্বীকে দেখে জীবনে প্রথমবারের মতো লমব্রসোর থিওরির সাথে একমত হলাম। রাব্বীকে দেখে মনে হলো এর চেহারায় লমব্রসোর থিওরির সকল গুণাগুণ বিদ্যমান!!! এর জন্মই হয়েছে মনে হয় মানুষকে হয়রানি করার জন্য। সনদ পাওয়ার অাগে অারেক পিয়নকে অারো ১০০ টাকা দিতে হলো। সনদ হাতে পেলাম বিকাল ৪টার দিকে। তাড়াতাড়ি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর দরখাস্ত লিখে বোরাক টাওয়ার বরাবর দৌড় দিলাম। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের রুমে ঢুকে দেখি উনি নাই, ভাইভা পরীক্ষার ওখানে অর্থাৎ সুপ্রীম কোর্টে গিয়েছেন। উনার রুমে জুনিয়র এক অফিসার ফোনে কোনো নারীর সাথে খোশ গল্প করছিলেন অামাদের সামনেই। অামরা দাঁড়িয়ে অাছি, কিন্তু উনি বিন্দুমাত্র বিব্রত না হয়ে উক্ত নারীর সাথে কথা চালিয়ে গেলেন। অবশেষে অামরা দাঁড়িয়ে অাছি দেখে ফোন রেখে অামাদের জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে বলুন। অামরা সবকিছু খুলে বলে, উনাকে দরখাস্তখানা রাখতে বললাম। উনি সবকিছু শুনে বললেন, দেখেন দরখাস্ত স্যারের কাছে দিলেই ভাল হয়; দেখা গেল অামার কাছৈ অাপনারা দরখাস্ত দিয়ে গেলেন কিন্তু অামি যদি স্যার বরাবর দরখাস্ত দেওয়ার অাগে এটা হারিয়ে ফেলি তখন কী হবে!!!!! অারো বললেন, এবার তো হাইকোর্ট ভাইভা অনেক সহজ হচ্ছে, অামি আইনের ছাত্র না হয়েই সব প্রশ্নের উত্তর জানি। কিন্তু অাপনারা অ্যাডভোকেটরা যে কেন পারছেন না, বুঝতে পারছি না। অনেকে তো এলএল.বি এর অর্থ ব্যাচেলর অব লজ এটাই বলতে পারতেছে না। দেখুন অাপনারা একটু ভালভাবে প্রিপারেশন নিয়েন। এই হারামজাদার কথা শুনে রাগে অামার গা কাঁপতেছে; কিন্তু কিছু বলতে পারলাম না। শুধু বললাম এলএল.বি এর মিনিং শুধু ব্যাচেলর অব লজ না বরং Legum Baccalaureusও বটে। এরপরে বদমাইশটা বলতেছে ঠিক অাছে, অাপনারা দরখাস্ত রেখে যান, অামি স্যার অাসলে স্যারের কাছে দরখাস্তটা দিব। কিন্তু অাপনারা অাগামীকাল সকালে এসে স্যারের সাথে অাবার দেখা করে গেলে ভাল হয়। 

পরেরদিন সকাল ১০টার দিকে বার কাউন্সিলে গিয়ে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহফুযুল মুরশেদ সাহেবের সাথে দেখা করলাম। অামাদের দেখা মাত্রই উনি এমনভাবে ‘কী চান’ বললেন, তাতে মনে হলো অামরা বোধহয় উনার কিডনি চাইতে এসেছি!!! যাই হোক, কিছু করার নাই; অামরা যেহেতু উনার কাছে ধরা তাই নিরবে সহ্য করে যেতে হবে। অামরা দরখাস্তের ব্যাপারে বললাম, অবশেষে উনি অামাদের দরখাস্ত টেনে বের করে দেখে বললেন- অাপনাদের পরীক্ষা সবার শেষে হবে অথবা কবে হবে বলতে পারছি না। অামরা জিজ্ঞেস করলাম, পরীক্ষার বিষয়ে অামরা জানবো কীভাবে??? অামাদের রোল কি বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে???? মুরশেদ সাহেব রাগান্বিত হয়ে উত্তর দিলেন, না কোথাও প্রকাশিত হবেন না; ফোন করে জানানো হতেও পারে অাবার নাও হতে পারে- অাপনাদের নিয়মিত বার কাউন্সিলে এসে খোঁজ খবর নিতে হবে। এখন অাপনারা অাসুন, দেখছেন না অনেক ব্যস্ত অাছি। মন খারাপ করে উনার রুম থেকে ফিরছিলাম এমন সময় সেদিন অামাদের সাথে পরীক্ষা দিতে পারে নাই এমন একজনের দেখা পেলাম। উনি বললেন, ভাই অামার পরীক্ষা তো অাগামী বৃহস্পতিবার নিবে। অামি বললাম, কই অামাদের তো এমন কিছু বললো না বরং দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দিল। উনি বললেন, ভাই অামি ওমুক জেলার বারের সেক্রেটারির জুনিয়র। অামাকে যেদিন পরীক্ষা নেওয়া হলো না সেদিনই অামি স্যারকে ফোন দিলে, স্যার তখনই বিমানে করে ঢাকা চলে অাসেন। এবং পরেরদিন জনৈক বিচারপতির সাথে দেখা করলে, বিচারপতি বার কাউন্সিলে ফোন দিয়ে দেন; তাই অামার পরীক্ষা বৃহস্পতিবারে নেওয়া হবে। এটা শুনে, সাকা চৌধুরীর মাননীয় স্পিকারের উদ্দেশ্যে দেওয়া বিখ্যাত মন্তব্যের কথা মনে পড়লো। তবে নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম এই ভেবে যে, অামার সাথে কেউ না থাকলেও অাল্লাহ্ তো অাছেন। নিশ্চয়ই অাল্লাহ্ অামাকে রক্ষা করবেন। হয়তো অাল্লাহ্ অামার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন। বাসায় চলে অাসলাম। কাউকে কিছু বলতেও পারিনা; শুধু নিরবে নিভৃতে চোখের জল ফেলে পরমকরুণাময় অাল্লাহ্ এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।

দুদিন পরে বার কাউন্সিলে গিয়ে অাবার মাহফুযুল মুরশেদ সাহেবের সাথে দেখা করলাম। এবার তিনি একটু সদয় হলেন বলে মনে হলো। অামাকে দেখে উনিই প্রথম জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার বলেন তো অাপনাকে তো রেগুলার ই বার কাউন্সিলে দেখতেছি। অামি বললাম, কী করবো বলেন- অামার তো অার কোনো উপায় নেই। উনি বললেন, কবে পরীক্ষা দিতে চান বলেন। অামি উত্তরে বললাম, অাপনারা যেদিন নিতে চান সেদিনই অামি দিতে রাজি। অতঃপর উনি বললেন, ঠিক অাছে পরীক্ষা শেষ হবে ওমুক তারিখে; অাপনি তার অাগের দিন পরীক্ষা দেন- এটা বলে অামার দরখাস্ত কী যেন লিখলেন। এবং বললেন, ঐদিন চলে অাসবেন পরীক্ষা দিতে। বিগত কয়েকদিনে অসহ্য যস্ত্রণার পরে যেন একটু শান্তির পরশ পেলাম। 

দুদিন পরে এক বন্ধু ফোন দিয়ে বলল, ভাই- বার কাউন্সিল থেকে ফোন দিয়ে বলেছে যে অামরা যারা সনদের কারণে পরীক্ষা দিতে পারিনি তাঁদের সকলের পরীক্ষা শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হবে। সে অারো বলল যে, এই বিষয়ে অন্যান্য সকলকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে বলা হয়েছে। অামি কয়েকজন কে ফোন দিলাম, সবাই বলল তাঁদের কে বার-কাউন্সিল থেকে ফোন দেওয়া হয়েছে। শুধু অামাকেই কোনো ফোন দেওয়া হয় নাই। এ যেন শেষ হইয়াও, শেষ না হওয়ার মত যন্ত্রণা। যাই হোক, টেনশন বাদ দিয়ে ঠিক করলাম শেষ দিনই যাব। যা হওয়ার হবে। এই জ্বালা অার ভাল লাগছে না। 

অবশেষে অাসলো সেই দিন। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে, সালাত অাদায় করে, কুরঅান পড়ে, গোসল করার পরে পোশাকাদি পরে সুপ্রিমকোর্টের দিকে রওনা দিলাম। সেদিন ছিল ভাইভা পরীক্ষার শেষ দিন। সকল জুডিশিয়াল অফিসারদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল ঐদিনে। সেই সাথে অামাদের মতো যারা বিভিন্ন কারণে পরীক্ষা দিতে পারে নাই তাদেরও। যাই হোক, সুপ্রীম কোর্ট অডিটোরিয়ামে পৌছানো মাত্রই বার কাউন্সিলের এক পিয়নের কাছ থেকে নিশ্চিত হলাম যে, অাজকে অামাদের পরীক্ষা অাদৌ নেওয়া হবে কিনা। যখর হাজিরা শীটে অামার রোল নাম্বার দেখলাম তখন অামি যেন অানন্দে অাত্মহারা। শুধুমাত্র পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েও যে মানুষ অানন্দ পেতে পারে- সেটা জীবনে প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করলাম। সকাল ৯ টা থেকে অপেক্ষা করতে করতে অবশেষে বিকাল ৪.৩০ এর দিকে অামার রোল কল করা হলো। অাল্লাহ্ এর নাম নিয়ে ভাইভা বোর্ডে ঢুকেই সালাম দিলাম। লক্ষ করলাম যারা অামার ভাইভা নেয় নাই, ঠিক সেই তিনজনের সামনেই অামি অাবার এসে হাজির হয়েছি। অর্থাৎ বোর্ড মেম্বার ছিলেন- অাপিল বিভাগের বিচারপতি মোঃ নুরুজ্জামান স্যার (মাঝখানে বসা ছিলেন), হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জনাব রাজিক অাল জলিল স্যার (বামে ছিলেন), বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়্যারমান বিজ্ঞ অাইনজীবী জনাব ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন স্যার (ডানে ছিলেন)।

(উল্লেখ্য যে, অামাকে শুধু ইউসুফ হোসেন স্যারই প্রশ্ন করেছিলেন।)

: অাসসালামু ওয়ালাইকুম।

: বসুন।

: ধন্যবাদ, স্যার।

: কোন বার?

: ওমুক বার, স্যার।

: ওখান থেকে এখানে (ঢাকায়) প্র্যাকটিস করতে অাসবেন তো?

: জ্বি অবশ্যই, স্যার। অামি অামার বাবার সাথে প্র্যাকটিস করি, উনি চান না অামি লোকাল বারে স্থায়ী হই। উনি চান অামি যেন হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করি। 

: ২০১৪ সালে এনরোলড?

: জ্বি স্যার।

: কোন সাইডে প্র্যাকটিস করেন?

: সিভিল এবং ক্রিমিনাল দুই দিকেই তবে ক্রিমিনাল একটু বেশি।

: সর্বশেষ কোন মামলার হেয়ারিং করছেন?

: স্যার, অামি সাধারণত বাবাকে সাহায্য করি।

: নিজে কোনো হেয়ারিং করেনন নাই? হোক সেটা টাইম পিটিশন অথবা বেল হেয়ারিং বা অন্য কিছু?

: স্যার, সর্বশেষ যৌতুকের মামলার জামিন শুনানি করেছি।

: কোন পক্ষে বাদী নাকি বিবাদী?

: বিবাদী পক্ষে, স্যার।

: কী হেয়ারিং করেছিলেন বলেন শুনি।

: স্যার, অাপোষের শর্তে জামিন অাবেদন করেছিলাম। বিজ্ঞ অাদালত ধার্য তারিখ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

: এটা কি জামিনযযোগ্য নাকি জামিনঅযোগ্য?

: জামিনঅযোগ্য, স্যার।

: সাজা কত?

: অনূর্ধ্ব ৫ বছর কারাদণ্ড অথবা অন্যূন ১ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

: ( বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান- এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন স্যার এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান অাপিল বিভাগের বিচারপতি জনাব মোঃ নুরুজ্জামান স্যার কে বললেন, ইয়ং ম্যান দিয়ে দেন। তখন বিচারপতি মোঃ নুরুজ্জামান স্যার অামাকে বললেন, ঠিক অাছে অাসেন।)

: ধন্যবাদ, স্যার। এটা বলে চলে অাসলাম।

অবশেষে ১৫ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে চূড়ান্ত রেজাল্ট প্রকাশিত হলো। এবং পরম করুণাময় অাল্লাহ্ অামাকে সুপ্রীম কোর্টের একজন অাইনজীবী হিসেবে কবুল করলেন। অালহামদুলিল্লাহ্ ; অাল্লাহু অাকবার। বহু দিনের অধরা স্বপ্ন যেন বাস্তবে রূপান্তরিত হলো অাল্লাহ্’র দয়ায়। মাঝে মাঝে সত্যিই সন্দেহ হয় যে, অামি এত কিছুর যোগ্য কি না!!!

<p class="has-drop-cap has-normal-font-size" value="<amp-fit-text layout="fixed-height" min-font-size="6" max-font-size="72" height="80"><amp-fit-text layout="fixed-height" min-font-size="6" max-font-size="72" height="80">

Design a site like this with WordPress.com
Get started